সেক্সে শিমুল মূলের উপকারিতা: শিমূল গাছ যেমন সৌন্দর্য-বর্ধক বৃক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয় তেমনি এর আছে নানাবিধ ঔষধি গুণাগুণ। এর মূল,বাকল,কষ,বীজ ও ফুল সবই বিভিন্ন ভেষজ ঔষধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অনেকে শিমুল মূলকে প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা বলে থাকেন। যৌন সমস্যার সমাধানে শিমুলের মূল খুবই ভালো কাজ করে।

এক নজরে মূলবিষয় সমূহ:
শিমুলের মূলের বিভিন্ন উপাদান ও পরিমাণ
| আর্দ্রতা | ৭.৫% |
| স্টার্চ | ৭১.২% |
| চিনি | ৮.২% |
| প্রোটিন | ১.২% |
| চর্বি | ০.৯% |
| খনিজ পদার্থ | ২.১% |
| ট্যানিন | ০.৯% |
| সেলুলোজ | ২% |
| ক্যালসিয়াম | ৯৩ মিলিগ্রাম/১০০ গ্রাম |
সেক্সে শিমুল মূলের উপকারিতা কি ?
- যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
- পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা কয়েক গুন বৃদ্ধি করে।
- পুরুষের বীর্যকে ঘন করে।
- যৌন ক্ষমতা/সময় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- পুরুষের অকাল বীর্যপাত প্রতিরোধ করে।
- পুরুষের ইরেক্টাইল ডিসফাংশন চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়।
- শরীরের পেশীগুলিতে শক্তি সরবরাহ করে।
- মস্তিষ্কতে অবস্থিক লিবিডোকে উদ্দীপিত করে। ফলে যৌন চাহিদা তীব্র হয়।
- মহিলাদের মাসিক সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।মহিলাদের শ্বেত প্রদাহ ও অতিরিক্ত ঋতুস্রাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
শিমুল মূলের উপকারিতা: অন্যান্য ২০ টি বিশেষ গুণ

শিমুল গাছের মূল এবং কান্ডে গ্লাইকোসাইড এবং ট্যানিন আছে, যার কারণে গাছটি ওষুধি গুণাগুণ সম্পন্ন।
- স্নায়ুবিক দুর্বলতা দূর করে।
- ডায়রিয়া ও আমাশয় নিয়ন্ত্রণে খুবই উপকারী।
- প্রেশার এর রোগীদের জন্য খুবই ভালো।
- পৌঢ় বয়স পর্যন্ত যৌবন ধরে রাখতে সহায়তা করে।
- যারা অপুষ্টিতে ভোগছেন তাদের জন্য শিমুল মূল খুবই কার্যকরী।
- শিমুল মূল পিপাসা নিবারক হিসেবে কাজ করে।
- ডায়বেটিস প্রতিরোধক হিসেবে শিমুল মূল ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও এটি ব্যাথাযুক্ত ঋতুস্রাবে কার্যকরী।
- আমাশয় এবং ডায়রিয়ার মতো গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগের চিকিৎসায়ও সহায়ক।
- ত্বকের ব্রণ কমায়, দাগ দূর করে।
- পেটের সমস্যা দূর করে।
- ক্ষতস্থানের ঘাঁ নিরাময়ে এটি ভালো কাজ করে।
- শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে সহায়তা করে।
- গর্ভবতী মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- সর্দি-কাশি দ্রুত ভালো করে।
- মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত হলে শিমুল গাছের মূল ভালো কাজ করে।
- শরীরের রক্ত পরিশোধনে সাহায্য করে।
- ফোঁড়া রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। শিমুল মূল ছেঁচে ক্ষত স্থানে লাগাতে হবে।
- মেছতা ও উদরাময় রোগের চিকিৎসায়তেও ব্যবহার করা হয়।
- রক্ত আমাশয়ে শিমুলের ছাল চুর্ণ করে ছাগল এর দুধের সাথে মিশিয়ে দু বেলা খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।
শিমুল গাছের কোন কোন অংশ খাওয়া যায়?
১. মূল।
২. বাকল।
৩. কষ।
৪. বীজ ।
৫. ফুল।
শিমুল মূলের গুঁড়া কিভাবে তৈরি করা উচিত?
বৃহদাকার লাল শিমুল গাছের বাছাইকৃত মূলগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে শিমুল মূল চূর্ণ করা উচিত। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, ধুলাবালিমুক্ত এবং কোন অপ্রয়োজনীয় উপাদানের মিশ্রণ থাকা যাবে না। এরপর গুঁড়াগুলোকে একটা কাঁচের বা প্লাস্টিকের পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে।
শিমুল মূল চূর্ণ খাওয়ার নিয়ম:

১। প্রথমে মূল সংগ্রহ করা হয়। তারপরে সেগুলিকে ছোট ছোট টুকরো করা হয় এবং গুঁড়া বানানো হয়। এই গুড়া বোতলে সংরক্ষণ করা হয়। নিয়মমাফিক মধু এবং দুধের সাথে মিশ্রিত করে শিমুল মূলের গুড়া খাওয়া যেতে পারে।
২। ১ চামচ পাউডার ১ কাপ পানিতে ভিজিয়ে খেতে হবে। দুধের সাথে খাওয়া বেশী উপকারী।
দিনে কতটুকু শিমুল এর মূল খাওয়া উচিত?
প্রতিদিন দেহের ওজন হিসেবে শিমুল মূল খাওয়া উচিত। প্রতি কেজি দৈহিক ওজনে ৪০০ মিলিগ্রাম শিমুল মূল খাওয়া যেতে পারে। যদি কারো ওজন ৬০ কেজি হয় তাহলে তার জন্য শিমুল মূল এর পরিমাণ হচ্ছে ২৪ গ্রাম।
কতদিন শিমুল এর মূল খাওয়া উচিত?
২১ থেকে ২৮ দিন নিয়ম মাফিক খেলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
0 Comments
hi